অ্যাবাকাস কোন বয়সে শেখা জরুরি?

শিশুর শেখার ক্ষমতা বয়সভেদে ভিন্ন হয়। বিশেষ করে ৫ থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় ব্রেইন ডেভেলপমেন্টের গোল্ডেন পিরিয়ড। এই সময়েই যদি সঠিক পদ্ধতিতে শেখানো যায়, শেখার প্রভাব থাকে দীর্ঘস্থায়ী। অ্যাবাকাস শেখার ক্ষেত্রেও এই বয়সটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


৫ থেকে ৭ বছর: শেখার আদর্শ শুরু
এই বয়সে শিশুর কল্পনাশক্তি খুব সক্রিয় থাকে। সংখ্যা চিনতে শেখা, হাতের আঙুল নড়াচড়া করা এবং সহজ অঙ্ক বোঝার ক্ষমতা তখন দ্রুত তৈরি হয়। অ্যাবাকাসে দানা নড়াচড়া করতে করতে শিশুর সংখ্যা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়। এতে অঙ্কের ভয় শুরুতেই দূর হয়ে যায়।


৮ থেকে ১০ বছর: গতি ও নির্ভুলতা বাড়ানোর সময়
এই বয়সে শিশুরা নিয়ম বুঝতে পারে এবং অনুশীলনে আগ্রহী হয়। অ্যাবাকাস শেখার ফলে মানসিক গণনার গতি অনেক বেড়ে যায়। স্কুলের অঙ্কের সঙ্গে অ্যাবাকাসের সমন্বয় সহজ হয়, ফলে পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।


১১ থেকে ১২ বছর: দক্ষতা শানিত করার ধাপ
এই পর্যায়ে শিশুরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শেখে। যারা আগেই অ্যাবাকাস শিখেছে, তারা এখানে আরও এগিয়ে যায়। আর যারা দেরিতে শুরু করে, তারাও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ভালো ফল পেতে পারে। এই বয়সে অ্যাবাকাস শেখা মানে শেখার ক্ষমতাকে আরও শক্ত করা।


তাহলে কি ১২ বছরের পর দেরি হয়ে যায়?
একেবারেই না। ১২ বছরের পরও অ্যাবাকাস শেখা সম্ভব। তবে ছোট বয়সে শেখার মতো স্বাভাবিক ও দ্রুত দক্ষতা তৈরি হয় না। কারণ তখন মস্তিষ্কের নমনীয়তা কিছুটা কমে আসে। তাই যত আগে শুরু করা যায়, ফল তত ভালো হয়।
অভিভাবকদের জন্য সংক্ষিপ্ত পরামর্শ
শুধু বয়স দেখেই নয়, শিশুর আগ্রহ ও মানসিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। চাপ দিয়ে নয়, আনন্দের সঙ্গে শেখানোই অ্যাবাকাসের মূল শক্তি। সপ্তাহে নিয়মিত অনুশীলন থাকলে অল্প সময়েই পরিবর্তন চোখে পড়বে।
শেষ কথা


অ্যাবাকাস শেখার সবচেয়ে জরুরি সময় ৫ থেকে ১২ বছর। এই সময়েই শেখা মানে শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। ভবিষ্যতের পড়াশোনা ও জীবন দক্ষতার জন্য এটি হতে পারে একটি শক্ত হাতিয়ার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top